Powered by Hooligan Media

বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের প্যানেলকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করে জেলা আ.লীগ, ক্ষোভ-বিস্ময়

২০০৫ সালের ১৭ আগস্ট দেশের ৬৩টি জেলায় বোমা হামলা হয়। এ ঘটনার প্রতিবাদে ও ভুক্তভোগীদের স্মরণে বুধবার বিকেলে বরগুনা সদর রোডে আবলুস পতাকা মিছিল ও সমাবেশ করে জেলা ছাত্রলীগের ব্যবস্থাপক-কর্মচারীরা।

সম্প্রতি ঘোষিত জেলা ছাত্রলীগের প্রতিনিধিদের অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেছে বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগ। মঙ্গলবার সন্ধ্যার প্রতিবেদনে বরগুনার আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। এ রায়ের বাস্তবতা খতিয়ে দেখেন আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের নিজস্ব পরিচালকরা। তারা বলেন, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির সাধারণ সভায় এমন তথ্য তৈরি করেছেন, যা কোম্পানিকে উসকানি দিয়ে গোটা মহলে আওয়ামী লীগ ও ছাত্রলীগের রাজনীতিকে মেলে ধরার উদ্দেশ্য। এরই দৃষ্টান্ত হিসেবে মঙ্গলবার রাতে আমতলী উপজেলা স্বচ্ছসেবক লীগের সভাপতিকে স্তব্ধ করে ছাত্রলীগের কয়েকজন ম্যানেজার কর্তৃক ক্ষত-বিক্ষত হয়।

আওয়ামী লীগ ম্যানেজারদের এই সিদ্ধান্তকে আবারও বিচারবহির্ভূত বলে উল্লেখ করেছেন প্রধান ও স্থানীয় ছাত্রলীগের ম্যানেজাররা। কমিউনিটি আওয়ামী লীগের অপ্রীতিকর তথ্যের আড়ালে, ছাত্রলীগ সরকার জুড়ে বোমা হামলার প্রতিবাদে ১৭ আগস্ট বুধবার দুপুর দুইটার দিকে মহানগরীতে দাঁড়কাক পতাকা উত্তোলন ও বিক্ষোভ করে।

Powered by Hooligan Media

আওয়ামী লীগের ১১ জন নেতা বুধবার প্রথম আলো ডটকমকে বলেন, অব্যবহৃত কাউন্সিল নিয়ে এক মাস ধরে বাস্তুচ্যুত হয়ে বসবাসকারীদের মধ্যে অসংখ্য অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার বোর্ডে জায়গা না পাওয়ায় এ ঘটনা ঘটছে। ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক ঘটনা দেশজুড়ে আলোচিত হয়েছে। তারা মনে করেন, কমিউনিটি আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রচার সম্পাদকের তথ্যের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে আমতলী উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি মোয়াজ্জেম খানকে প্রকাশ্যে কুপিয়েছে ছাত্রলীগের কয়েকজন প্রাদেশিক কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারী। জেলা কর্তৃপক্ষের এমন একটি অসামাজিক বক্তব্য পুরো পাড়ায় দলগত প্রতিযোগিতাকে ব্যাপকভাবে পুনরুজ্জীবিত করবে।

বুঝতে অনুরোধ করা হলে জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম জনসম্পাদক, মহাকাশ যোদ্ধা আবদুল মোতালেব মৃধা প্রথম আলোকে বলেন, “জেলা আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগের প্রতিনিধিদের অবাঞ্ছিতভাবে যোগাযোগ করতে প্রশাসনকে ধরে রাখে না।” এটি সভাপতি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবিরের ব্যক্তিগত বিষয়। আওয়ামী লীগের সেকশনে এই তথ্যটি তৈরি করার আগে তারা আমাদের চিন্তাভাবনা সহ্য করেনি, বা তারা এটি পরীক্ষা করেও সম্পন্ন করেনি। তিনি বলেন, ছাত্রলীগের বিষয়ে একমাত্র দলের সভাপতি শেখ হাসিনাই সিদ্ধান্তে আসতে পারেন। ছাত্রলীগের অজনপ্রিয়তার তথ্যে প্রতিযোগিতা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত। এতে গোটা পাড়ায় দলীয় রাজনীতিতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হবে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সম্পাদকমণ্ডলীর একটি অংশ প্রথম আলোকে নাম প্রকাশ না করার পরিস্থিতি প্রকাশ করেছে যে, ছাত্রলীগ প্রধান দল আওয়ামী লীগের একটি ভ্রাতৃপ্রতিম সম্প্রদায়। এভাবে কমিউনিটি আওয়ামী লীগের ম্যানেজাররা কোনোভাবেই ছাত্রলীগকে অপ্রীতিকর ঘোষণা করতে পারেন না। কমিউনিটি বা উপজেলা পরিষদে কোনো সমস্যা থাকলে স্থানীয় আওয়ামী লীগ ছাত্রলীগের প্রধান প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানাতে বা ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দিতে পারে। কিন্তু তাই একটি ভ্রাতৃপ্রতিম সম্প্রদায়কে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা মোটেও যুক্তিসঙ্গত ছিল না।

গত সোমবার বরগুনায় জাতীয় শোক দিবসের অভিজ্ঞতায় জেলা ছাত্রলীগের শোক কুচকাওয়াজে অপর পক্ষ ইটপাটকেল নিক্ষেপ করলে পুলিশ লাঠিচার্জ করে। এ ঘটনার পর প্রত্যাহার করা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মহররম আলীসহ বিভিন্ন পুলিশ সদস্যদের বিচারের দাবিতে গতকাল সন্ধ্যায় বরগুনা সম্প্রদায় আওয়ামী লীগ বিক্ষোভ মিছিল করেছে। জেলা ছাত্রলীগের সদ্য একত্রিত কমিটি মিছিলের সমাবেশ থেকে দূরে সরে দাঁড়িয়েছে। জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সংসদ সদস্য ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু ও সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির আঞ্চলিক সদর রোড প্রেসক্লাবে সমাবেশের পেছনে একটি শো করে বিক্ষোভ পরিচালনা করেন।

বরগুনায় ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের সময় লাঠিচার্জ করেন ওই কর্মকর্তা। এর আগে সোমবার বিকেলে জেলা আর্ট একাডেমির সামনে

ওই ভিড়ের মধ্যে ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু বলেন, বরগুনায় যত জনপ্রতিনিধি রয়েছে, এত নোংরা নিম্নমানের প্যানেল আগে কখনো হয়নি। কমিউনিটির প্রধান ছাত্রলীগের প্রতিনিধিরা শিক্ষানবিস কিনা তা নিয়ে আমরা অবিশ্বাস করি। তিনি আরও ঘোষণা করেন, “আমরা প্যানেল ছাড়া কোনো বোর্ড পাই না।” আমরা কেউ এই কমিশন পাই না। এই প্যানেলের পর আওয়ামী লীগ কমিউনিটিতে কারা পারফর্ম করেছে, কে শক্তি দিয়েছে, কে পুঁজি দিয়েছে এবং বরগুনায় কে একটি পরিমাণ তৈরি করেছে তা আমরা চারিদিকে বুঝতে পারি। তারা এখানেও বর্তমান (ফোরামে) বিদ্যমান। আমরা সভা ছাড়া এই আশেপাশে ছাত্রলীগের প্যানেল মানি না।

উদ্ধারের সময় জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর কবির ছাত্রলীগের প্রধান ম্যানেজারদের উদ্দেশে বলেন, তারা খাবার শেষ করে দৌড়ে বেরিয়ে গেছে। তারা কোন কমিশন বহন না সম্পন্ন. ঢাকায় গিয়ে নোট নেওয়ার পেছনে তারা তাদের পছন্দ মতো প্যানেল দিয়েছে। জাহাঙ্গীর কবির উদ্ধারে বলেন, রাজাকারের তরুনদের নিয়ে এই কাউন্সিল গঠন করা হয়েছে, যারা শিক্ষানবিস নয়। আমরা লক্ষ রাখি এই অবৈধ কমিশন অবাঞ্ছিত। তাদের সাহায্য করার ইচ্ছা কারো নেই।’

কমিউনিটি আওয়ামী লীগ ব্যবস্থাপকদের মন্তব্য প্রসঙ্গে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক তৌশিকুর রহমান আজ প্রথম আলোকে বলেন, “বরগুনায় ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র চলছে। আমি একজন আইনবিদ হিসেবে বসবাস করি। আমাদের ছাত্রজীবনের কাছেই প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু এই মহানগরের প্রত্যেকেই বুঝতে পারে যে তারা যখন বিদ্রোহ করে তখন তারা কী অর্জন করে কারণ তারা ঘাঁটির সাথে যোগাযোগ করে না। সবাই বুঝতে পারে কে কিশোর দল বানায়।

আট বছর পর বরগুনা পৌরসভার সিরাজ উদ্দিন টাউন হল হলে বরগুনা জেলা ছাত্রলীগের সমাবেশের জন্ম হয় ১৭ জুলাই। এরপর ২৪ জুলাই সন্ধ্যায় ছাত্রলীগের নতুন প্যানেলকে সমর্থন দেন ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মো. রেজাউল কবির সভাপতি ও তৌশিকুর রহমানসহ ৩৩ জনের কথা শোনা যায়। এরপর থেকে সদ্য প্রকাশিত বোর্ডটি বরগুনা নগরীতে বাস্তুচ্যুত ব্যক্তিদের নিয়ে বিক্ষোভ করছে। তারা বেশিরভাগই বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের দুই শীর্ষ নেতার সমর্থক।

Leave a Comment